সব গাইড

পরিকল্পনা

বিদেশে ইউনিভার্সিটি কীভাবে বেছে নেবেন

শর্টলিস্ট বানানোর সহজ চেকলিস্ট: ভর্তি হতে পারবেন, খরচ চালাতে পারবেন, আর থাকতেও ভালো লাগবে।

পড়তে ৭ মিনিট লাগবেআপডেট: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

বেশিরভাগ স্টুডেন্ট শুরু করেন র‍্যাঙ্কিং টেবিল আর পছন্দের কোনো শহর দিয়ে। আইডিয়া পেতে এটা ঠিক আছে। কিন্তু ভালো শর্টলিস্ট চারটা সোজা প্রশ্নের উত্তর দেয়। ভর্তি হতে পারব তো? খরচ চালাতে পারব? ভিসা পাব? আর এই কোর্স কি আমাকে পরের লক্ষ্যে নিয়ে যাবে?

আগে কোর্স দেখুন, পরে ইউনিভার্সিটি

একই নামের দুইটা কোর্স একদম আলাদা হতে পারে। ইউনিভার্সিটির নিজের কোর্স পেজে মডিউলের লিস্ট খুলুন। দেখুন প্রতি বছর আসলে কী পড়বেন, আর কীভাবে মূল্যায়ন হয় (পরীক্ষা, কোর্সওয়ার্ক, ডিজার্টেশন, প্লেসমেন্ট)। আপনার ক্যারিয়ারে প্রফেশনাল বডির অ্যাক্রেডিটেশন লাগলে সেটাও দেখে নিন। ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাকাউন্টিং, সাইকোলজি, ফার্মেসি আর আর্কিটেকচারে প্রায়ই এটা লাগে।

  • আগে বাধ্যতামূলক মডিউলগুলো দেখুন। অপশনাল মডিউল অনেক সময় প্রতি বছর থাকে না।
  • কোর্স কত দিনের, দেখে নিন। যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স সাধারণত এক বছরের। অন্য অনেক দেশে দুই বছরের।
  • কাজের অভিজ্ঞতা চাইলে দেখুন প্লেসমেন্ট বা “ইয়ার ইন ইন্ডাস্ট্রি” অপশন আছে কি না।
  • বড় করে লেখা গ্রেড দেখে থামবেন না, আপনার দেশের এন্ট্রি রিকোয়ারমেন্ট পড়ুন। বেশিরভাগ ইউনিভার্সিটি প্রতিটা দেশের জন্য আলাদা পেজ রাখে।

ইউনিভার্সিটি আপনার ভিসা স্পন্সর করতে পারে কি না দেখুন

যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য Confirmation of Acceptance for Studies (CAS) লাগে। এটা দিতে হলে ইউনিভার্সিটি বা কলেজের Home Office-এর Student sponsor licence থাকতে হয়। RightUni অফিসিয়াল রেজিস্টার দেখে লাইসেন্স থাকা স্পন্সরের পাশে টিক চিহ্ন দেয়। অন্য দেশেরও এরকম লিস্ট আছে: কানাডার designated learning institutions (DLI), অস্ট্রেলিয়ার CRICOS রেজিস্টার আর যুক্তরাষ্ট্রের SEVP-certified স্কুল।

আসল খরচটা হিসাব করুন

টিউশন ফি পুরো খরচের একটা অংশ মাত্র। এর সাথে যোগ করুন শহরের থাকা-খাওয়ার খরচ (যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ জায়গার চেয়ে লন্ডনে খরচ বেশ বেশি), ভিসা ফি, হেলথ সারচার্জ বা ইনস্যুরেন্স, প্লেনের টিকিট আর ডিপোজিট। বেশিরভাগ ইউনিভার্সিটি CAS বা অফারের ডকুমেন্ট দেওয়ার আগে এই ডিপোজিট চায়। এরপর দেখুন ভিসার জন্য ব্যাংকে কত টাকা দেখাতে হবে। এটা একটা নির্দিষ্ট অ্যামাউন্ট। আপনি আসলে কত খরচ করবেন, সেটা আলাদা হিসাব।

  • ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের স্কলারশিপ সাধারণত টিউশন ফি-তে ছোট একটা ছাড়, আর অনেকগুলো আপনাআপনি পাওয়া যায়। শর্তগুলো পড়ুন। কিছু স্কলারশিপের জন্য নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ডিপোজিট দিতে হয়।
  • কোর্সের প্রতি বছর ফি অনেক সময় বাড়ে। পুরো কোর্সে আপনার ফি একই থাকবে কি না দেখে নিন।
  • ছোট শহরে বাসাভাড়ায় অনেক টাকা বাঁচে। আর পার্ট-টাইম জব সব জায়গাতেই পাওয়া যায়।

কোর্স শেষের পরের কথাও ভাবুন

ওই দেশে পড়া শেষে কাজের নিয়ম কী, দেখে নিন। এই কোর্সের গ্র্যাজুয়েটরা কোথায় কাজ করছেন, আর শহরে আপনার ফিল্ডে চাকরি আছে কি না, সেটাও দেখুন। লোকাল কোম্পানিগুলোর সাথে ইউনিভার্সিটির ভালো যোগাযোগ থাকলে সেটা র‍্যাঙ্কিংয়ে কয়েক ধাপ ওপরে থাকার চেয়েও বেশি কাজে আসতে পারে।

একটা ব্যালান্সড শর্টলিস্ট বানান

তিন লেভেলে মোট পাঁচ থেকে আটটা ইউনিভার্সিটি রাখুন। দুই-একটা একটু কঠিন চয়েস। কয়েকটা, যেখানে আপনার গ্রেড সাধারণ অফারের সাথে মেলে। আর এক-দুইটা নিরাপদ চয়েস, যেখানে পড়লেও আপনি খুশি থাকবেন। RightUni-তে এগুলো শর্টলিস্টে সেভ করতে পারবেন। প্রতিটা অ্যাপ্লিকেশনকে ফার্স্ট চয়েস, ইনস্যুরেন্স বা ব্যাকআপ হিসেবে মার্কও করতে পারবেন।

টাকার বিনিময়ে কেউ অফার বা ভিসার গ্যারান্টি দিলে সাবধান। ভর্তির সিদ্ধান্ত ইউনিভার্সিটি নিজে নেয়, আর ভিসার সিদ্ধান্ত নেয় শুধু সরকার।

এবার প্ল্যানটা কাজে লাগান

প্রতিটা অ্যাপ্লিকেশন, তার শর্ত আর ডেডলাইনের হিসাব রাখুন। ডকুমেন্টগুলো রাখুন এনক্রিপ্টেড ভল্টে। ফ্রি।

ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলুন