সব গাইড

অ্যাপ্লাই করা

UCAS নাকি সরাসরি? যুক্তরাজ্যে অ্যাপ্লাই করার নিয়ম

কোন পথে অ্যাপ্লাই করবেন, তা নির্ভর করে কোন লেভেলে পড়বেন তার ওপর। এখানে দেখুন প্রতিটা পথ কীভাবে কাজ করে, আর এজেন্সির ভূমিকা কোথায়।

পড়তে ৬ মিনিট লাগবেআপডেট: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

আন্ডারগ্র্যাজুয়েট: UCAS দিয়ে

যুক্তরাজ্যের প্রায় সব ফুল-টাইম আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কোর্সে UCAS দিয়ে অ্যাপ্লাই করতে হয়। আপনি একটাই অ্যাপ্লিকেশন করবেন। তাতে পাঁচটা পর্যন্ত চয়েস, একটা পার্সোনাল স্টেটমেন্ট আর একটা রেফারেন্স থাকবে। ফি-ও দেবেন একবার। ইউনিভার্সিটি আপনার অ্যাপ্লিকেশন দেখতে পায়, কিন্তু আর কোথায় অ্যাপ্লাই করেছেন তা দেখতে পায় না।

  • সর্বোচ্চ পাঁচটা চয়েস (মেডিসিন, ডেন্টিস্ট্রি বা ভেটেরিনারি সায়েন্সে মাত্র চারটা)।
  • চয়েসগুলো আলাদা ইউনিভার্সিটিতে হতে পারে, আবার একই ইউনিভার্সিটির আলাদা কোর্সেও হতে পারে।
  • অফার হাতে পাওয়ার পর একটা ফার্ম চয়েস আর একটা ইনস্যুরেন্স চয়েস বেছে নেবেন।
  • রেফারেন্স সাধারণত আপনার স্কুল বা কলেজ যোগ করে দেয়। নিজে অ্যাপ্লাই করলে কোনো শিক্ষক বা অফিসের বসকে রেফারেন্স দিতে বলুন।

UCAS পার্সোনাল স্টেটমেন্ট

২০২৬ সালের এন্ট্রি থেকে পার্সোনাল স্টেটমেন্ট আর খোলা রচনা না। এখন তিনটা প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়: কেন বিষয়টা পড়তে চান, আপনার পড়াশোনা আপনাকে কীভাবে তৈরি করেছে, আর পড়াশোনার বাইরে কী করে প্রস্তুতি নিয়েছেন। মোট দৈর্ঘ্য আগের মতোই ৪,০০০ ক্যারেক্টার। সাধারণ আগ্রহের কথা না লিখে বিষয়টা নিয়ে নির্দিষ্ট করে লিখুন। কী পড়েছেন, কী বানিয়েছেন, কী পরীক্ষা করে দেখেছেন বা কী খেয়াল করেছেন, সেগুলো লিখুন।

পোস্টগ্র্যাজুয়েট: প্রতিটা ইউনিভার্সিটিতে সরাসরি

মাস্টার্স আর PhD-র অ্যাপ্লিকেশন যায় প্রতিটা ইউনিভার্সিটির নিজের অনলাইন পোর্টালে। কয়টা পাঠাবেন, তার কোনো লিমিট নেই। অনেক জায়গায় অ্যাপ্লিকেশন ফি-ও লাগে না। সাধারণত আপলোড করতে হয় ট্রান্সক্রিপ্ট, ডিগ্রির সার্টিফিকেট (বা কবে পাবেন সেই তারিখ), CV, স্টেটমেন্ট অফ পারপাস, রেফারেন্স আর ইংলিশ টেস্টের রেজাল্ট।

  • অনেক টট মাস্টার্স কোর্স অ্যাপ্লিকেশন আসার সাথে সাথেই সিদ্ধান্ত দিতে থাকে। তাই আগে অ্যাপ্লাই করলে সুবিধা।
  • কিছু কোর্সে পোর্টফোলিও, লেখার নমুনা বা ইন্টারভিউ চায়।
  • PhD-তে সাধারণত একটা রিসার্চ প্রপোজাল লাগে। আর একজন সুপারভাইজার লাগে, যিনি আপনাকে নিতে রাজি।

ফাউন্ডেশন আর প্রি-মাস্টার্স কোর্স

আপনার যোগ্যতা দিয়ে সরাসরি ভর্তি না হলে ফাউন্ডেশন ইয়ার (ব্যাচেলরের আগে) বা প্রি-মাস্টার্স কোর্স দিয়ে ঢোকা যায়। এগুলোর অনেকগুলো ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসেই কোনো পার্টনার কলেজের সাথে মিলে চালায়। ইউনিভার্সিটি মূল কোর্সে যাওয়ার গ্যারান্টি দেয় কি না, আর তার জন্য কত গ্রেড লাগবে, দেখে নিন।

এজেন্সির ভূমিকা কোথায়

অনেক ইউনিভার্সিটি এডুকেশন এজেন্টদের সাথে কাজ করে। এজেন্ট আপনাকে অ্যাপ্লাই করতে সাহায্য করেন, আর ইউনিভার্সিটি তাঁদের কমিশন দেয়। ভালো এজেন্ট আপনার সময় বাঁচাতে পারেন। খারাপ এজেন্ট আপনাকে সেই ইউনিভার্সিটির দিকে ঠেলে দিতে পারেন, যারা সবচেয়ে বেশি কমিশন দেয়। অ্যাপ্লাই করতে কখনোই এজেন্ট লাগে না। চাইলে সবসময় নিজেই ইউনিভার্সিটির অ্যাডমিশন টিমের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। যে পথেই যান, অ্যাপ্লিক্যান্ট আইডি, পোর্টালের লগইন লিংক আর সব ডকুমেন্টের একটা কপি নিজের কাছে রাখুন। RightUni-তে প্রতিটার জন্য আলাদা ঘর আছে।

পাসপোর্ট বা ডকুমেন্টের একমাত্র কপি কখনো অন্য কারো কাছে রাখবেন না। পোর্টালের পাসওয়ার্ডও কাউকে দেবেন না।

এবার প্ল্যানটা কাজে লাগান

প্রতিটা অ্যাপ্লিকেশন, তার শর্ত আর ডেডলাইনের হিসাব রাখুন। ডকুমেন্টগুলো রাখুন এনক্রিপ্টেড ভল্টে। ফ্রি।

ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলুন